

সন্তানদের মোবাইল আসক্তি: উপকারিতা এবং ক্ষতি
ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২৫: বর্তমান প্রযুক্তির যুগে, স্মার্টফোন শিশুদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় গ্যাজেট হয়ে উঠেছে। যেখানেই যান, মোবাইল ফোন শিশুর হাতেই দেখতে পাওয়া যায়। তবে, এই মোবাইল আসক্তি সন্তানের জীবনে নতুন সম্ভাবনা এবং বিপদ উভয়ই নিয়ে আসছে।
মোবাইলের উপকারিতা
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সন্তানেরা বেশ কিছু উপকারিতা পেতে পারে। প্রথমত, এটি তাদের শিক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। অনলাইন টিউটোরিয়াল এবং শিক্ষামূলক অ্যাপ্লিকেশন যেমন Khan Academy, Duolingo ইত্যাদি শিশুর শেখার প্রক্রিয়া সহজতর করে। এছাড়াও, মোবাইল ফোন শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। ছবি আঁকা, ভিডিও তৈরি এবং মিউজিক কম্পোজ করা সম্ভব হয় ফোনের মাধ্যমেই।
বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে শিশুরা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে, বিশ্বের নানা কোণে ঘটে যাওয়া খবরাখবর জানতে পারে এবং তাদের সামাজিক, মানসিক বিকাশে সহায়ক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এভাবে, মোবাইল ফোন শিশুদের সামাজিকতা এবং জ্ঞান বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে।
মোবাইলের ক্ষতি
তবে, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার সন্তানের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘ সময় স্ক্রীন দেখার ফলে শিশুদের চোখে সমস্যা, ঘুমের অভাব এবং শরীরের বিভিন্ন ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় মোবাইল গেম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে শিশুদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হয় এবং তারা আসক্ত হয়ে পড়ে।
এছাড়া, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিবর্তে, শিশুরা মোবাইলে ডুবে থাকে, যার ফলে পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
উপসংহার
এটি স্পষ্ট যে, মোবাইল ফোনের উপকারিতা এবং ক্ষতির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সীমারেখা রয়েছে। সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে এটি শিক্ষায় সহায়ক এবং সামাজিক সম্পর্কের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, সন্তানের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। অভিভাবকদের উচিত, শিশুর মোবাইল ব্যবহারে নজর রাখা, সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং তাদের আরও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত করা।
মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার সন্তানের জন্য একটি কার্যকর শিক্ষা এবং যোগাযোগের মাধ্যম হতে পারে, তবে এটি ব্যবহৃত হতে হবে যত্নসহকারে এবং সতর্কতার সাথে।